সশস্ত্র বিপ্লব ও অন্যান্য ধারণা - কমরেড মুশফিক বরাত
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, ঊনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান, নব্বুইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও চব্বিশের বিপ্লবে আমরা অস্ত্রের ব্যবহার দেখেছি। অস্ত্র ছাড়া যার কোনোটাই সফল হতে পারতো না। তাছাড়া চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া পথ খোলা থাকবে না। বিপ্লবের পরে পথ অনেক কিন্তু শুরুতে পথ একটাই। নিরস্ত্র জনতার শক্তিতে আস্থা রাখা অনাস্থার প্রতিচ্ছবি।একটি হিংসাত্মক রাজনৈতিক দলের দম্ভকে দমিয়ে দেবার একটাই রাস্তা- সশস্ত্র হওয়া।বাকিটা হাস্যকর ইতিহাস।আমরা সার্বিক বিবেচনায় উপহাস হতে রাজি নই।তাছাড়া ইতিহাস কীভাবে চলমান থাকবে? নিরস্ত্র হতে বলার অর্থ হচ্ছে ইতিহাসকে অবদমিত করা।এই অপচেষ্টাকে রুখে দিন; ভাত-কাপড়ের লড়াই বেগবান রাখুন। পরিস্থিতি অস্ত্র তৈরি করে, মানুষ নয়।বিশাল-ব্যাপক আন্দোলনের পরিসমাপ্তি হতে হবে অতি অবশ্যই হিংসাত্মক।আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের।সেটাই অধিকাংশ আন্দোলনের দ্বন্দ্ববিরোধ মীমাংসা।
ভাববাদীদের তত্ত্ব নিয়ে ব্যাখ্যায় খোদ ভাববাদীদের অভ্যন্তরে যে অনাস্থা দেখা দিচ্ছে তাতে হতবাক হবার মতো কিছু নেই।এভাবেও কমিউনিস্টদের সাবধানী হতে হবে।পার্টির সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানো ও আরো বেশিমাত্রায় সক্রিয়তা জরুরী।কর্মীবল বৃদ্ধি ও বামপন্থী জোটের দিকে মনোযোগী হওয়া।সার্বিক পরিচিতি পুনর্গঠনে নির্বাচনে যুক্ত হবার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।নির্বাচন উদ্ধারে বিপ্লবীদের রক্ত ঝরছে। নির্বাচনকে বৈধতা দানের এই যে পেটি বুর্জোয়া ঝোঁক তাকে মেনে নেওয়া যায় না। বিপ্লবীদের হত্যা করে নির্বাচন বানচালের প্রক্রিয়াকে আমরা সাধুবাদ জানাতে পারিনা।নিজ গোত্রীয় তত্ত্ব নিয়ে ভাববাদীদের যে সংশয় তাকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যায় না।
শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় ঘোষণা হয়েছে।ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে।এ বিক্ষোভ মৃত্যুদণ্ডের রায় অতি দ্রুত কার্যকর করার জন্য।অন্যদিকে এ ব্যাপারে ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটছে।ভারতকে আমরা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে চাই।তাদের আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ আর কাম্য নয়।এখনো পর্যন্ত তারা বাংলাদেশের এ গণঅভ্যুত্থানে কোনো প্রকারের সহযোগিতা দেয়নি। তারপরও এ আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।এ আকর্ষণীয় ও কাঙ্ক্ষিত ফাঁসির রায়ে জনগণ উচ্ছ্বসিত। দেশজুড়ে আনন্দের বন্যায় ভেসে গেছে অন্যায়। সুবিচারের এই যে সঠিক সময়ের সদ্ব্যবহার তা এখনই হতে হতো। কিছুদিন পরে হলে চলতো না।আমরা আদালতের এই রায়কে পুনরায় অভিনন্দন জানাই।